কবিতা আলোচনা
দীপংকর দত্ত
অগ্রজ কবি যার হাত ধরে বইমেলা পৌছালাম
আকাশচুম্বনের প্রথম পাঠ প্রতিক্রিয়া: দীপঙ্কর দত্ত (৮০ দশকের কবি ও 'শূন্যকাল' পত্রিকার সম্পাদক)
"জেড পাথরে আটকে আছি নগর প্রহরী, আমারও একটা ভ্রমণ আছে নিজস্ব"- বস্তুত এই উচ্চারণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কবি পীযূষকান্তি বিশ্বাসের সদ্য প্রকাশিত দ্বিতীয় বই আকাশচুম্বন-এর তাবৎ দ্বান্দ্বিক ভ্রমণময় কাব্যদর্শনের বীজ। দ্বন্দ্বই সমস্ত গতি ও জীবনের উৎস কবি জানেন, এমনকি জীবাশ্মে স্ট্যাসিস পর্যায়েও এক প্রস্তরীভূত স্পন্দন অনুভব করেন তিনি।
"এইখানে তুমি ইলেকট্রনগুলো রাখো ফ্যারাডে
যেখানে এল ই ডি থেকে চুঁইয়ে পড়ে জ্যোৎস্না
বিশ্ববাজার থেকে সূর্যরশ্মিগুলি
সিল্করুটের দিকে চলে যায়"।
"খনিজের অবস্থান থেকে জীবন্ত ওয়ালপেপারে উঠে এসে
প্রিয়তমার থুথু থেকে চুমুগুলো আলাদা হবে একদিন
আমার শুক্রাশয় থেকে নতুন অবতার ডাউনলোড হবে
তাই
ঠোঁটের কাছাকাছি তোমার উপস্থিতিকে
কৃষ্ণ-গহ্বর থেকে উঠে আসা সময়ের পুনর্জন্মের কথা মনে পড়ায়"
"দুই পা বিছানায় এলিয়ে চোখ নামালো রাস্তা আয়নায় উঁকিবুকি পিলীয়ন রাইডার"
সম্ভবত এই দ্বন্দ্বচেতনার উন্মেষ তখনি হয় যখন কবি কৈশোরে তাঁর বহিরগাছির ভিটেভূঁই ছেড়ে পাড়ি দিয়ে দৈবের বশে এক কংক্রিটের জঙ্গলে এসে তাঁর প্রবাস জীবন শুরু করেন এবং বায়ু সেনায় যোগ দেন।
"জানি, এপথও যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে চলে যাবে একদিন"।
"এবার বাস্তুভিটে, বাপঠাকুরদার জমি বিক্রয় করে দেওয়া যাক
ভেঙে ফেলা যাক সুরক্ষাবলয়
একই অভিমুখের গতিবেগে নিজেদের ভরবেগ মেপে নেওয়া যাক
সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স থেকে
বেরিয়ে সোজা বাজারের দিকে হেঁটে যাওয়া যাক" ।
আত্মজীবনের দিনানুদৈনিকের দ্রোহে লিপ্ত কবির সমাজ সম্পৃক্ততার দৃষ্টান্তও অসাধারণ।
"দেয়ালের একেকটা ইট একেকটা ঈশ্বর
ঈশ্বরের প্রত্যেকটা প্রহরী এক একটা মৌ-লোভী
এইভাবে প্রত্যেকটা কারাগার একটা ধর্ম
ওরা
কয়েকটা দেয়ালে আমাদের ঘিরে
একটি বৃত্ত এঁকে
আমাদেরকে সেট থিওরি পড়ে শোনাচ্ছে
আর বৃত্তটা বার বার দ্বিখন্ডিত হয়ে যাচ্ছে"।
ডায়াসপোরিক এই কবির বিজ্ঞানমনষ্কতা ও কবিতায় তার সদ্ব্যবহার স্তম্ভিত করে। কংক্রিট জঙ্গলের মহীরূহগুলির আকাশচুম্বন যত প্রগাঢ় হতে থাকে আন্তঃমানুষ সম্পর্ক ততই হয়ে পরে অন্তঃসারশূন্য। জীবিকার উদ্দেশ্যে বাজারে ও রাজপথে ভ্রাম্যমান কবি লেখেন "রুটির নিরাপত্তা হাতের মুঠো থেকে আলগা হয়ে গেছে আরও দক্ষিণে।" এক বছরের ব্যবধানে দু-দুটি কাব্যসংগ্রহ কবিকে অনেকটাই পাঠক সন্নিধানে এনেছে কিন্তু অহমিকার কোনও অভিব্যক্তি কোথাও নেই বরং এই স্বগতকথন আমাদের আশ্চর্য করে "বীজের পরিপক্কতার জন্য আমাদের হেঁটে যেতে হবে অনেক বাজার"। অবশ্যপাঠ্য এই গ্রন্থটির সার্বিক প্রচার কামনা করি। -- দীপঙ্কর দত্ত
একরামুল চৌধুরী
বন্ধু
YESTERDAY I HAD GONE TO KOLKATA BOOK FAIR. I COLLECTED YOUR BOOK OF POEMS. LEFT THE MELA-GROUND AT AROUND 6;45 PM. TOOK SEALDAH-BONGAON TRAIN OF 8;05 PM. CONTINUED READING YOUR POEMS. WONDERFUL ! GOT MESMERIZED. READ ALL THE POEMS AT A STRETCH. THEY DID NOT PERMIT MY EYES, MY SENSES TO DETRACT ME TO OTHER DIRECTIONS. I WAS STUPEFIED, SPELLBOUND, ASTONISHED. ALL MY AIR-FORCE DAYS SEEMED TO ME AN ENIGMATIC BLEND OF NOSTALGIA, DREAMS, PANGS, PASSIONS, SACRIFICES AND ULTIMATELY A JOB OF ACCOMPLISHMENT, FELLOW-FEELING AND BLISS. YOUR POEMS ARE ALL ABOUT WONDERFUL BLEND OF PERSONAL FEELINGS WITH A STUPENDOUS TOUCH OF COMMITMENT, MELANCHOLY AND LOVE OF LIFE AND STRUGGLE FOR UNIVERSAL EXISTENCE.------------- THE WORDS CHOSEN ARE WONDERFUL MIX OF NATURAL SCIENCE, LITERATURE, WORLD OF COMPUTING AND IT AND ENIGMA OF CHEMISTRY AND BIOLOGY. IT'S WONDERFUL. EXPECTING MANY MORE BOOKS OF POEMS FROM YOU PIJUSHDA.
উমাপদ কর
শ্রদ্ধেয় কবি ও সাহিত্যিক
আকাশচুম্বন ।। পীযূষকান্তি বিশ্বাস ।। (অভিযান পাব্লিশার্স)
অনেক সময় বেশ কিছু বলার কথা জমে যায়। জানানোর অভিলাষও জমে। যেখানে জমে, সেখানে আলো পড়ে। প্রতিফলিত হতে চায়। সঙ্গে তাপের বিকিরণ ঘটে। জল চুঁইয়ে নামে। বাতাস শুধুই দম নেওয়া আর ছাড়ার মধ্যে আটকে না থেকে কিছুটা এলোমেলো বয়ে যায়। কথা যেমন সাজে গোজে, জানানোয় পেয়ে যায় বিশেষ মাত্রা। এখান থেকেই শুরু হতে পারে কবিতা যাত্রা। একটি সংবেদনশীল আর পরিশীলিত মনন তার পাহাড়প্রমান ভারকে ফিলটার করে করে নিগেট করে। আর দমকে বাঁধ ভেঙে না ফেলে আস্তে আস্তে সিঞ্চন শুরু করে। কবিতার বহু স্বত্তার মধ্যে সেচের কাজটি তার বৈশিষ্ট্য আর দূরদর্শীতাকে দেখাতে থাকে। পীযূষের জমে যাওয়ার অনেক কিছুই আমার জানা ছিল না। আবার জানাগুলো তার চরিত্র ও চিরাচরিত রূপ বদলে আমাকে নতুন করে জানালো। কথা আর কথার কথা থাকল না। সে যখন জমানো থেকে এক আঁজলা তোলে—‘হাড় হিমকরা ডিলিটেড ফাইলগুলো/ রিসাইকেল বিনে পড়ে আছে।’ আমি তখন অজান্তেই নিজের ল্যাপটপের রিসাইকেল বিনটা একবার দেখে নিতে চাই। অনুভব করার চেষ্টা করি তাপমাত্রার বিষয়টা। ‘একটা দেহ রেখে/ অন্ধকার ছেড়ে যাচ্ছি’। কোথায় যে উড়ে যাই! এত হালকা বোধ হয়। যদিও অন্ধকারের মায়া ছাড়ার প্যাথোজ তখনও আমাকে জড়িয়ে রাখে। ‘ঘরে ফিরে গেছে সমস্ত হলুদগুলো/ সাঁঝবেলাও’। আমি সন্ধে খুঁজতে থাকি। তার রঙ আর ঘরে ফেরার সঙ্গে নিজের ফেরার তুলনায় মাতি। খুব বেশি দিন লিখছে না পীযূষ। তবু তার রোপওয়েতে দেখতে দেখতে চলার মজাই আলাদা। অনেক কিছু দেখায় যেমন, একেকটা ভঙ্গীতে জানায়। আমার আগ্রহ জারি রাখা অবধারিত হয়ে পড়ে।
এই বই-এর একটি কবিতার অংশ—
ডিজিটাল
ডিজিট যোগ করে করে ডিজিটাল হচ্ছি
ডিজিটের পরে ডিজিট যোগ করে মুদ্রাস্ফীতি
মেধা পুড়িয়ে সমগ্র পরিবার খাচ্ছি
কপাল ঝরানো নুন
ভাইয়ের হাতে স্যামসুং,
বোনের বাড়ি আই-ওয়ে পার
শেয়ারে বিয়োগ হচ্ছে কোকোকোলা...
মায়ের চুড়িদার পরে মঞ্চ থেকে ঝাঁপ দিচ্ছে
আমাদের ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট বাপ
@