Monday, January 5, 2015

দিল্লি হাট

দিল্লি হাট

হাটে বেচাকেনার পাশে পুতুলের ভীড়
লাল সাদা কণকচুড়ির ঝনঝনানির শব্দ
কিছু অচেনা হাটুরের হাতে পুতুল হয়ে যাচ্ছে হাট
কেউ কেউ ভোগ্য বলে গিলে নিচ্ছে বাজারের হাঁক,
কেউ কেউ পণ্য বলে মিলিয়ে যাচ্ছে গলা
পুতুলদের দামদরের উপরনীচ পাতার পাতা এই সাহজানাবাদ
কবে যে রাজধানি হয়ে ওঠে
ঘৌড়সওয়ারের ধুলোয় ঢাকা এই লাস্যময়ী পৃথিবীর
আর এক নাম দিল্লি হাট

যারা  বিক্রি করতে এসেছিলো হাতেগড়া খিলোনা,
যারা কিনে নিয়ে গেলো লেহেঙ্গা চুন্নি
রুহ-আফজায়ের সাথে চাইনীজ আতরের গন্ধে দাঁড়িয়ে
অই যে কৃষ্ণকায় অশরীরী নিম গাছ
ভোদকার সাথে বিসলারি মিশিয়ে বসে আছে
বটাটা বড়ার পাদদেশে মুখগুঁজে কামড়ের অপেক্ষা করে
বসে আছে তার শিকড়
দীপংকরের দিকে মুখ করে


হাটের ফোকাসে আলোকিত যখন বিক্রেতাদের মুখ
পণ্যের আলোকে হাত উঁচিয়ে তুলে ধরে বাচিক শিল্পীর গলা
জনতার ভীড় থেকে আলাদা হয়ে জাতীয় কবির কলম
ওই মেয়েটির দিকে
কিভাবে ওরা  শব্দের ভীড় কে অর্থবহ করে তোলে,
কিভাবে ওরা শব্দ পুড়িয়ে তোলে পাক্কা ঝামা ইট,
ঘাড়ের উপরে ঘাড় মিশিয়ে
চাঁদাতুলে বইখাতার বাজার চাপিয়ে বইমেলা করে
খোকন জানেনা বলে বিষবাগীচায় ফুল ফোটেনি
মানুষের উপর চাপিয়ে নেয় শিল্পের আটায়ার আর
আন্ত-প্রজাতি সংগ্রামে
খেঁটে খাওয়া মানুষেরা পিরামিডের ভিত গড়ে তোলে
আর বুদবুদের উপর দাঁড়িয়ে তুমি আমি বিশাখা
বিজলী গ্রীলের ধোয়া ফুঁকে আকবরের জমি সংস্করন নিয়ে
দুপাতা ইতিহাস লিখে ফেলি ।


দোকানীরা আসলে দিন আনে না আচ্ছে বা বুরা,
আর প্রতিটা রাত আর একটি রাত
প্রাংগনে ঝাট দেবার আগে দূরে দূরে জ্বলে ওঠে যে সব স্ট্রীট লাইট
তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি আকাশের দিকে
তাকিয়ে থাকে আরেকটি ভোরের,
দিনগুলি আসলে নাকি হলুদ হয়ে আসে
পাকা ইটের উপর যেভাবে উঠে আসে বহুজাগতিক বিজ্ঞাপন
বিকেলের কাঁধে চড়ে সোনামনি চুড়ি কিনতে আসে
মনে হয় পড়ন্ত এই
বিসলারী জলের ভিতর
হেসে ওঠে খিলখিলিয়ে ওঠা আলকোহল ভাবে
এই পোদ পাকা কবিতার  আমিই হবো  শ্রেষ্ট আবিষ্কার ...





No comments:

Post a Comment